আক্কেলপুর হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়গনস্টেক সেন্টারে রোগী দেখার সময় জনতার হাতে আটক ডাক্তার

নর্থ এক্সপ্রেস
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ - ১৯:২৩
• পঠিত: 8 বার

জয়পুরহাটের আক্কলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে পাশের একটি বেসরকারি দ্বি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে| এ সময় স্থানীয়রা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আটক করেন| পরে পুলিশ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয় তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান|
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেো|
প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীদের অভিযোগ, ওই সময় ডা. মোর্শেদুল ইসলামের আক্কেলপুর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার কথা ছিল| তার কাছে চিকিৎসা নিতে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন| এ সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান| প্রায় এক ঘণ্টা পার হলেও তিনি হাসপাতালে ফিরে না আসায় অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়| হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইয়াসমিন নামের এক রোগী বলেন, ডাক্তারের কাছে দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম| তিনি ফোন পেয়ে উঠে চলে যান| এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা কবেও তাকে পাইনি|
পরে স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে হাসপাতালের পাশের দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে' গিয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে রোগী দেখার সময় দেখতে পান| সেখানে রুজিনা নামের এক রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন|
স্থানীয় সিফাত হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার সময় তার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কথা| কিন্তু তাকে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়| পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাকে আটক করেন| খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়|পরে আক্কেলপুর থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা করৰ্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান|
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কে বলেছে আপনাকে ভাই? আমি পাঁচ মিনিট পর আপনাকে ফোন ব্যাক করতেছি| এরপর তিনি ফোনের সংযোাগ বিচ্ছিন্ন করে দেন| পরে তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি|
এ বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি| সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো চিকিৎসক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেছেন কি না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে| তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে|”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম| সেখানে আমার কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছিল সেগুলো জমা দেওয়ার জন্যই আমি সেখানে যাই| ওই সময় আমার সামনে কোনো রোগী ছিল না এবং রোগী দেখার জন্য কোনো প্যাড, খাতা বা কলমও ছিল না| সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন| আমি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে একদিন রোগী দেখি| তবে ঘটনার সময় আমি কোনো রোগী দেখছিলাম না|






