
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কের জন্ম দেওয়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বুধবার প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। চুক্তিভিত্তিক সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করা মসিউর রহমানকে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও এর কারণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। গত ১ নভেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মসিউর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া একটি স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটিকে হাদিস হিসেবে অভিহিত করলে অনেকে মনে করতে পারেন, পরবর্তী পদায়নের আশায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তোষামোদ করছেন। তবে তার মতে, এটি একটি শাশ্বত বাণী। বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ’ এবং ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত স্বার্থের কথা বলা এসব বাণীর সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। একপর্যায়ে মসিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখে দাড়ি নেই এবং তিনি টুপি পরেন না বলেই বাণীটি হাদিস হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। কোনো আলেম বা হুজুর একই কথা বললে সেটি হাদিস হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেওয়া মসিউর রহমানের এই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়।

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অর্থ ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিল্পোদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক কর্মীসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব হিসাব জব্দ করতে দেশের সব ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ তালিকায় দেশের কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মীরাও রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অথবা দলটির সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী ছিলেন বলে জানা গেছে। এনবিআর সূত্র জানায়, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে অর্থায়ন এবং আন্দোলনকে ঘিরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। কারণ, তাদের কেউ কারাগারে, কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আবার কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন সংস্থার মামলার পর থেকেই জব্দ রয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার এনবিআরের একটি অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে। রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১২টি শিল্পগোষ্ঠীর মালিক পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। একই অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। অভিযোগের তালিকায় থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপার নামও রয়েছে। মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থ জোগানোর অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামে এক ব্যক্তি। সূত্রের দাবি, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনলাইনে সমন্বয়ের কাজ করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে প্রায় ১৫০ ব্যক্তি কাজ করছেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কয়েকজন শিল্প মালিকও জড়িত—সরকারের কাছে এমন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর পেছনে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং ওই সময়ের ব্যর্থতার জন্য কারা দায়ী—তাও নির্ধারণ করবে কমিশন। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করে। তিন সদস্যের কমিশনকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। হাই কোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে হামের টিকা কেনা, সরবরাহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করবে কমিশন। এসব কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্বও নিরূপণ করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে মারা গেছে ১০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৬৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায়ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশে হামের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর টিকা সরবরাহের ঘাটতি ও টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এপ্রিল ও মে মাসে টিকা সংকট প্রকাশ্যে এলে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ না করার অভিযোগের মধ্যেই একের পর এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। এ পরিস্থিতিতে তৎকালীন সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়। হামের টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থাপনায়ও ইউনূস সরকারের সময়ে পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় টিকা সংগ্রহ করত। এর অর্থায়নে প্রধান ভূমিকা ছিল দাতাদের সহায়তার। কিন্তু ২০২৫ সালে টিকা সংগ্রহকে রাজস্ব বাজেটের আওতায় এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার পথে এগোয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই পরিবর্তনের ফলে টিকা সংগ্রহে সময়ক্ষেপণ হয়েছে কি না এবং সিদ্ধান্তটি হামের টিকা সরবরাহে সংকট তৈরিতে কতটা ভূমিকা রেখেছে—তাও তদন্তে আসতে পারে। এর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক বিরূপ পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণেও টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা উঠে আসে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার যখন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ঠিকমতো না চলার বিষয়টি সামনে আসে। হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর মধ্যে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে গত ২০ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি জানিয়েছিলেন, টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে অন্তত ১০টি বৈঠকও হয়েছিল বলে জানান তিনি। এর আগে বাংলাদেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতি’ নিয়ে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে চিঠি দিয়েছিলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি পাঠানো ওই চিঠির বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব তথ্যের পরও পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং কেন টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হলো—এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও দেশে হামে মৃত্যু পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও হামের বিস্তার ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টিকা ব্যবস্থাপনায় আগের সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাড়ে আট মাস পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিশন গঠন করল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’-এর অধীনে কমিশনটি গঠন করা হয়েছে। কমিশন হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে বিলম্ব, সময়ক্ষেপণ, অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করবে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করবে। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে কোন পর্যায়ে সিদ্ধান্তগত বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঘটেছিল, কার সিদ্ধান্তে বিলম্ব হয়েছে এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে। ভবিষ্যতে টিকা ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে পুনরায় তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশও দেবে কমিশন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কমিশনকে প্রয়োজনীয় সচিবিক সহায়তা দেবে। কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী তদন্তের ব্যয় এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব দেওয়া হবে। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই হামের টিকা সংকটের পেছনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায় কতটা ছিল, সে বিষয়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিত্র তুলে ধরবে কমিশন।

বগুড়ার শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। গত ২৩ অক্টোবর শেরপুর উপজেলার গারিদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া এলাকায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ মর্জিনা খাতুন (৩২) ২৫ অক্টোবর তাঁর স্বামী রেজাউল করিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবাস কেনার জন্য স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এজাহার দেওয়ার পর মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ তুলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের সঙ্গে দেনদরবার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা সরাসরি মর্জিনা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁর প্রতিনিধি জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় কথা বলতে পারবেন না। অভিযোগের বিষয়ে এসআই শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলেন। পরে ঢাকায় কাজ থাকায় কয়েক দিন থানার বাইরে ছিলেন। বাদী অসুস্থ থাকায় তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়েছে। বিবাদীর বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “বিবাদীর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে কখনো দেখিওনি। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ছাড়া আমার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের কোনো কথা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী একজন উপপরিদর্শক নিজের ক্ষমতায় কোনো অভিযোগকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে পারেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বুধবার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সরকারি অনুমোদন না পেয়েও অপরিশোধিত তেল পরিশোধনাগার নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। এবার নির্মাণাধীন ওই প্ল্যান্টে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের প্রস্তাবে ২০২৭ সালের জন্য চার লাখ টন লাইট ক্রুড এবং আট লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তবে প্ল্যান্টটির নির্মাণ ও পরিচালনার সরকারি অনুমোদন না থাকায় এ উদ্যোগ নিয়ে জ্বালানি খাতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যথাযথ সরকারি অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান নীতিমালার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এদিকে রাষ্ট্রীয় একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপিসি যখন উদ্যোগী হয়েছে, তখন অনুমোদনহীন বেসরকারি প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ চলতে থাকলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৭ অক্টোবর বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার ২০২৭ সালের জন্য চার লাখ টন লাইট ক্রুড ও আট লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চান। তবে এর আগে গত ১৪ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নির্মাণাধীন প্ল্যান্টে লাইট ক্রুড পরিশোধনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। ২৭ অক্টোবরের চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ক্রুড আমদানির অনুমতি চাওয়ার ক্ষেত্রে কনডেনসেট ও লাইট ক্রুডের বিষয়টি একইভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চিঠিতে বিপিসির ১০ আগস্টের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিপিসিকে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টন অকটেন, ১ লাখ ১৯ হাজার টন পেট্রোল, ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টন ডিজেল এবং ৩ লাখ ৬১ হাজার টন হাই সালফার ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে। এ পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চার লাখ টন লাইট ক্রুড (কনডেনসেট) এবং আট লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানি প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আমদানি করা কাঁচামাল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি বিপিসিকে সরবরাহের কথাও জানানো হয়। কিন্তু ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, দৈনিক ৩৫ হাজার ব্যারেল পরিশোধনক্ষমতার প্ল্যান্টটি লাইট ক্রুড পরিশোধনের উপযোগী করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য বছরে ২০ লাখ টন সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বর্তমান এবং সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, কনডেনসেট ও লাইট ক্রুডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দুটিকে সরাসরি একই পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিপিসির আগের বিভিন্ন অনুমতিপত্রেও কনডেনসেটকে লাইট ক্রুড হিসেবে উল্লেখ করার নজির পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক এক মহাব্যবস্থাপক বলেন, কনডেনসেটকে সাধারণভাবে লাইট ক্রুড অয়েল হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। কনডেনসেট মূলত গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাসের উপজাত। অন্যদিকে ক্রুড অয়েল আসে তেলক্ষেত্র থেকে। এ দুটি কাঁচামালের বৈশিষ্ট্য ও উৎস আলাদা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরীও বিষয়টিতে পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কনডেনসেট এক ধরনের হালকা হাইড্রোকার্বন হলেও ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের জন্য আমদানি করা লাইট ক্রুডের সঙ্গে একে এক করে দেখার সুযোগ নেই। কনডেনসেট গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে, আর লাইট ক্রুড তেলক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা হয়। উভয় কাঁচামাল পরিশোধন করে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব। এদিকে গত ১৪ জুলাই মন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল তাদের দৈনিক ৩৫ হাজার ব্যারেল ক্ষমতার ক্রুড অয়েল রিফাইনারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা চায়। সেখানে প্রকল্পটির বার্ষিক পরিশোধনক্ষমতা সাড়ে ১৭ লাখ মেট্রিক টন উল্লেখ করে লাইট ক্রুড পরিশোধনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে ওই চিঠিতে প্রকল্পটির সরকারি অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন স্বাক্ষরিত গত ১০ আগস্টের চিঠিতে ২০২৭ সালের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়। বিপিসির আমদানি পরিকল্পনা তৈরির স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির অকটেন, পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ নির্ধারণ জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ জন্য ২০২৬ সালের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়ায় ১২ আগস্টের মধ্যে ২০২৭ সালের জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মাসভিত্তিক ও গ্রেডভিত্তিক সরবরাহের পরিমাণ ছক অনুযায়ী পাঠাতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২০২৭ সালে বিপিসিকে মোট ১২ লাখ ৩ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ছাড়া বছরের বাকি ১১ মাসে প্রতি মাসে ২১ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ১০ হাজার টন পেট্রোল সরবরাহের কথা বলা হয়। একইভাবে মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪২ হাজার টন এইচএফও সরবরাহের পরিকল্পনা জানানো হয়। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ২০ হাজার টন অকটেন ও ৯ হাজার টন পেট্রোল সরবরাহের কথা উল্লেখ করা হয়। ডিজেলের ক্ষেত্রে জানুয়ারিতে ১২ হাজার ৫০০ টন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ হাজার ৫০০ টন, মার্চে ১২ হাজার ৫০০ টন এবং এপ্রিলে ৩০ হাজার টন সরবরাহের পরিকল্পনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এইচএফও সরবরাহের পরিকল্পনাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়। চিঠির তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়, বর্তমানে নির্মাণাধীন দৈনিক ৩৫ হাজার ব্যারেল ক্ষমতার ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) ২০২৭ সালের মার্চে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে এপ্রিল থেকে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বিপিসির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ক্রুড আমদানির অনুমতি চেয়ে পাঠানো একটি চিঠি তাঁর কাছে এসেছে। বিষয়টি বিপিসির সংশ্লিষ্ট দল পর্যালোচনা করছে। তবে সরকারি অনুমোদন ছাড়া স্পর্শকাতর জ্বালানি খাতে রিফাইনারি প্ল্যান্ট নির্মাণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি বিশ্বব্যাপী একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য। বাংলাদেশে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারি নির্মাণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমোদন না নিয়ে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের শামিল। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় এনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি বর্তমানে তাদের ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য বিপিসিকে সরবরাহ করে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, এমটিটি, লাইট এমএস ও এসবিপিএস মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৭ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করেছে। এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিপিসির পূর্বানুমোদন নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ন্যাফতা, পেট্রোবাংলা থেকে দেশীয় কনডেনসেট এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা কনডেনসেট ব্যবহার করে থাকে।


🕒 ৫ দিন আগে

🕒 ২৯ দিন আগে

🕒 ১ মাস আগে

🕒 ১ মাস আগে

🕒 ২ মাস আগে