
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও হেরোইনসহ তিনজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ওয়াপদাপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কুড়িগ্রাম আইনজীবি সমিতির সদস্য কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ওয়াপদাপাড়া (খলিলগঞ্জ) এলাকার এড. মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৫), তাঁর স্ত্রী মোছাঃ ডলি (৩০) এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যাপারীটারী এলাকার মোঃ শাহেদ মাহমুদ শাকিল (৩০)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে ১৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডলির কাছ থেকে ৫১টি হেরোইনের পুরিয়া এবং শাহেদ মাহমুদ শাকিলের কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট পরিমাণ ১৯৫ পিস, যার ওজন ১৯ দশমিক ৫ গ্রাম। অন্যদিকে, পলিথিনসহ হেরোইনের ওজন চার গ্রাম। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কুড়িগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মোঃ শাহ- নেওয়াজ জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, মাদকসহ তিন জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। থানায় হস্তান্তর করেছেন তারা। আগামীকাল সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও হেরোইনসহ তিনজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ওয়াপদাপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কুড়িগ্রাম আইনজীবি সমিতির সদস্য কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ওয়াপদাপাড়া (খলিলগঞ্জ) এলাকার এড. মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৫), তাঁর স্ত্রী মোছাঃ ডলি (৩০) এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যাপারীটারী এলাকার মোঃ শাহেদ মাহমুদ শাকিল (৩০)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে ১৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডলির কাছ থেকে ৫১টি হেরোইনের পুরিয়া এবং শাহেদ মাহমুদ শাকিলের কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট পরিমাণ ১৯৫ পিস, যার ওজন ১৯ দশমিক ৫ গ্রাম। অন্যদিকে, পলিথিনসহ হেরোইনের ওজন চার গ্রাম। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কুড়িগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মোঃ শাহ- নেওয়াজ জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, মাদকসহ তিন জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। থানায় হস্তান্তর করেছেন তারা। আগামীকাল সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ক্লোন করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে রংপুর মহানগরীর আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আব্দুস সালাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় মাজিদপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি একটি মাদ্রাসার সাবেক সুপার বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৩। বৃহস্পতিবার এসআরবি-১৩-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন করেন। পরে রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে আনুমানিক ১০০ জন প্রার্থীকে নিয়ে ভুয়া নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এরপর রাজশাহীতে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিভিন্ন পদে ৪২ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি ভুয়া অফিস আদেশ প্রকাশ করা হয়। এভাবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ক্লোন করা ওয়েবসাইটটি বন্ধের উদ্যোগ নিতে কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার চাকরিপ্রার্থীদের একজন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পালুনাশাহাপুর গ্রামের ফরহাদুল ইসলাম মন্ডল (২৯) বাদী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় আব্দুস সালামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৩২। এসআরবি-১৩ আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকার একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আব্দুস সালামকে গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের ফাঁকা পাতা এবং চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তিনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি মাদ্রাসার সুপার থাকাকালে বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে বীমার নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপনের কথা বলে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। রংপুর এসআরবি-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার আসামি ও জব্দ করা আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘মাদককে না বলুন, ক্রীড়াকে হ্যাঁ বলুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুপচাঁচিয়ায় হাটসাজাপুর যুবসমাজের উদ্যোগে বাজারদীঘি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বাজারদীঘি খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলে জাকির ভাইপাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রাসেল অলস্টার। খেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওবাইদুল হক।খেলা শেষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আয়েত আলীর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওবাইদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুল মান্নান, উজ্জ্বল হোসেন ও ইসরাফিল হোসেন প্রমুখ। পরে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। প্রধান অতিথি ওবাইদুল হক বলেন ,যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে আর তার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। যুবসমাজকে খেলাধুলা প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং এলাকায় ক্রীড়াচর্চার প্রসার ঘটাতে হবে। এজন্য যা করা দরকার আমি করবো ইনশাআল্লাহ।

কুড়িগ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাজভিত্তিক দিনব্যাপী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘তথ্য জানি অধিকার মানি’ এই প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে খলিলগঞ্জের অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, একশনএইড বাংলাদেশ এর যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সুশীল—সাপোর্টিং দ্য ইউনিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (সিএসও’স) টু আপহোল্ড হিউম্যান রাইটস, ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড রুল অব ল ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলা পর্যায়ে ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) ও কুড়িগ্রাম সিএসও হাব। অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক লাইলুন নাহার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নূর আলম, শহর সমাজসেবা অফিসার আবু সুফিয়ান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর আসিফ সাহারিয়ারসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, যুব সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি রওশন আরা। সঞ্চালনা করেন গ্রীন ভিলেজ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান কুড়িগ্রাম সিএসও হাবের সাধারণ সম্পাদক এম রশিদ আলী (মাস্টার)। এতে উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএস প্রজেক্টের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সিএসও হাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। জবাবদিহিতামুলক প্রতিশ্রুতি এবং আগামী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তথ্যের সহজলভ্যতা ও অধিকার সচেতনতা দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়নের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, হিজড়া সম্প্রদায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিজ এলাকায় বিশেষ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। ক্যাম্পেইনে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই আইন ব্যবহার করে নিজেদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর (সিএসও) সাংগঠনিক সক্ষমতা ও টেকসই ভিত্তি তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার ও সুশাসন সুসংহত করতেই এ ধরনের ক্যাম্পেইন কাজ করে যাচ্ছে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সকলের সমন্বিত সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ের এই প্রচারণামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি দখল করে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে চাষাবাদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন জমির মালিকানা দাবিদার মো. রেজাউল করিম। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, শেরপুর উপজেলার বিনোদপুর মৌজায় পৈতৃক সূত্রে তাঁদের পরিবারের মোট ১৯৪ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১০৭ শতক জমির সিএস খতিয়ান নম্বর ৩৫ এবং এমআরআর খতিয়ান নম্বর ৩৩ ও ১০৭। অন্য অংশের ৮৭ শতক জমির সিএস খতিয়ান নম্বর ৩৮ ও ৮১ এবং এমআরআর খতিয়ান নম্বর ৩৭ ও ৯৬। তাঁদের পরিবার বাপ-দাদার আমল থেকে এসব জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছে বলে দাবি করেন তিনি। রেজাউল করিমের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কয়েকজন ওই জমির কিছু অংশ অবৈধভাবে নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় মো. ওয়াজেদ আলী, মো. গাফফারসহ মোট ৫৩ জনকে বিবাদী করে ২০২৪ সালে বগুড়ার আদালতে ৩৯০/২০২৪ (অন্য) ও ৪০৫/২০২৪ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া জমি দখলের চেষ্টা ঠেকাতে ২০২৪ সালে বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭৪০ পি/২০২৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ওই মামলায় প্রতিপক্ষরা সংশ্লিষ্ট জমিতে আর যাবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে অব্যাহতি নেন। সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, গত ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মো. ওয়াজেদ আলী, মো. গাফফার, মো. আরিফ হোসেন, মো. আকতার মিয়া, মো. দেল মাহমুদ, মো. নুর আলম ও কবির উদ্দিনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক হালচাষ শুরু করেন। সংঘাত ও হামলার আশঙ্কায় তাঁরা বাধা দেননি বলে জানান তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। পরদিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিপক্ষকে জমিতে না যাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করে বলে তাঁর দাবি। তবে ২৭ অক্টোবর সকালে পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষরা আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রেজাউল করিমের ভাষ্য, পরে পুলিশের কাছে পুনরায় প্রতিকার চাইলেও তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরামুল হোসাইন বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে বা কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
