স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে নিয়ে তাদের পর্যায়ে প্রশ্ন করা হলে তারা বিব্রতবোধ করেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। গতকালও তাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না। আওয়ামী লীগ নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা ঠিক নয়, উচিতও নয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার তাদের নেই। তাদের কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করার অধিকার নেই। এমনকি দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও সুযোগ নেই।
মীর শাহে আলম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বাংলাদেশে নির্বাচন করা তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই। যদি তারা তা করে, তাহলে আইনের আওতায় আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে আগের মতো দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ধানের শীষের মতো জাতীয় প্রতীক ব্যবহারেরও সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন হবে দলনিরপেক্ষভাবে এবং সাধারণ প্রতীকে।
তিনি বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সমর্থিত প্রার্থী রাখার চেষ্টা করবে। স্থানীয় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন বা কর্মিসভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে দলের সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবে।
তবে এটিকে দলীয় প্রার্থী বা দলীয় মনোনয়ন বলা যাবে না উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, এটি দলীয় সমর্থন। দলকে মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ একজন প্রার্থী রাখার চেষ্টা করা হবে।
কোনো ইউনিয়নে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে স্থানীয় বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি। একজনকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে অন্যজনকে অন্যভাবে দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এরপরও কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থেকে গেলে এবং কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বগুড়া জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।
পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।