দুই বছর ধরে চলছে নির্মাণকাজ, তবু শেষ হয়নি সেতু। ফলে করতোয়া নদী পারাপারে এখনো ড্রামের ভেলাই ভরসা ৮ থেকে ১০ গ্রামের মানুষের। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী ও শিশুরা। বর্ষায় পানি বাড়লে দুর্ভোগ পৌঁছায় চরমে। সময়মতো স্কুলে যেতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা, বাজারে নিতে পারছেন না কৃষকের উৎপাদিত ফসল। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তিতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলোকদিয়ার-কৃষ্ণপুর এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৯৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর এমন চিত্র। বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। বরং নির্মাণকাজের ধীরগতিতে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন কৃষ্ণপুর, আলোকদিয়ারসহ আশপাশের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করতে হচ্ছে। নদী পারাপারে স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে ড্রামের ভেলা। সেটিই এখন তাদের নিত্যদিনের যোগাযোগের মাধ্যম।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে করতোয়া নদীতে পানি বাড়লে ড্রামের ভেলায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হয়। কৃষকেরা উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজের ধীরগতি এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই সেতুর কাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সেতুটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ নিরসনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু দুই বছরেও সেই আশা পূরণ হয়নি।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সিহাদুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারকে আরও ১০২ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত সময় শেষ হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এ বিষয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ কবে শেষ হবে, সেটিই এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রশ্ন। তাদের দাবি, আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করে ৮ থেকে ১০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান চান তারা।