ঢাকাই চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সরব অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু অশ্লীল দৃশ্যের বিরোধিতা করেননি, এমন ধরনের সিনেমা নির্মাণের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন।
তবে ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফায়ার’ সিনেমাকে ঘিরে একসময় অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে মান্নার দেওয়া একটি পুরোনো ভিডিও বক্তব্য আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
ভিডিওতে মান্না জানান, ‘ফায়ার’ সিনেমায় কাজ শুরু করলেও শুটিংয়ের মাঝপথে তিনি সরে দাঁড়ান। এমনকি সিনেমাটির ডাবিংয়েও অংশ নেননি বলে জানান তিনি।
মান্নার বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে অন্য শিল্পী, পরিচালক বা প্রযোজক কী ধরনের দৃশ্য ধারণ করছেন, তা একজন অভিনয়শিল্পীর পক্ষে সবসময় নিয়ন্ত্রণ বা যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে কোনো আপত্তিকর দৃশ্যে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি মুক্তির আগে মান্না এর পুরো কাজ শেষ করেননি। পরবর্তী সময়ে তার অনুপস্থিতিতে কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির পর কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে প্রযোজকের সঙ্গে মান্নার বিরোধও দেখা দেয় বলে জানান শেলী।
শেলী মান্না আরও বলেন, সিনেমাটিতে এমন কিছু বিষয় ঘটছিল, যা মান্নার ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এ কারণেই তিনি সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে তার দাবি।
অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান সম্পর্কে পুরোনো ভিডিওতে মান্না জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। তবে একা এই অবস্থান ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট এক চলচ্চিত্র পরিচালক জানান, ওই সময়ের চলচ্চিত্র অঙ্গনে বেশ কিছু সিনেমায় আপত্তিকর দৃশ্য যুক্ত করার প্রবণতা ছিল। মান্না এর বিরোধিতা করতেন এবং কয়েকজন নির্মাতা ও কলাকুশলীকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক ও অশ্লীলতামুক্ত সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
‘ফায়ার’ সিনেমার শিডিউল নিয়েও মান্নার সঙ্গে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে ওই পরিচালক দাবি করেন। সব মিলিয়ে সিনেমাটি থেকে মান্নার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে বলে তার বক্তব্য।
‘ফায়ার’ সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। এতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন পলি। বর্তমানে মোহাম্মদ হোসেন দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ ২৪ বছর পর পুরোনো ভিডিওটি সামনে আসায় ‘ফায়ার’ সিনেমা এবং অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মান্নার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।