পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসদরসহ উপজেলার সর্বত্রেই পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় স্থানীয় বড়াল-গুমানী নদীতে নৌকা পরিভ্রমন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে।গতকাল সন্ধ্যার পূর্বলগ্নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে উপজেলার ২১টি মন্দিরের পূজামণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে নদীর ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের মধ্যে একদিকে ছিল প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগ, অন্যদিকে ছিল পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা।
সরেজমিনে দেখা যায়,পৌর সভার বড়াল নদীতে ভাঙ্গুড়া বাজার দুর্গামন্দির, দক্ষিণমেন্দা কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির, জগাতলা দুর্গা মন্দির, পাথরঘাটা দুর্গা মন্দির, শরৎনগর বাজার দুর্গামন্দির,দক্ষিণমাবোলা দুর্গামন্দির,গজারমারা দুর্গামন্দির ও ভদ্রপাড়া দুর্গামন্দির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে গুমানী নদীর চড়ভাঙ্গুড়া ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির, কৈডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গামন্দির, নৌবাড়ীয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির ও বেতুয়ান সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হয়।প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে নদীর ঘাটগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তাঁরা।
বিসর্জনের সময় ভক্তরা সব অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির বিকাশ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই এর অন্যতম শিক্ষা।
প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে তাঁরা পরিবার-পরিজনের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেছেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সংগীত কুমার পাল,পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল সরকার বলেন, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ছিলো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূরাইয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা।