বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি দখল করে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে চাষাবাদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন জমির মালিকানা দাবিদার মো. রেজাউল করিম। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, শেরপুর উপজেলার বিনোদপুর মৌজায় পৈতৃক সূত্রে তাঁদের পরিবারের মোট ১৯৪ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১০৭ শতক জমির সিএস খতিয়ান নম্বর ৩৫ এবং এমআরআর খতিয়ান নম্বর ৩৩ ও ১০৭। অন্য অংশের ৮৭ শতক জমির সিএস খতিয়ান নম্বর ৩৮ ও ৮১ এবং এমআরআর খতিয়ান নম্বর ৩৭ ও ৯৬। তাঁদের পরিবার বাপ-দাদার আমল থেকে এসব জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
রেজাউল করিমের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কয়েকজন ওই জমির কিছু অংশ অবৈধভাবে নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় মো. ওয়াজেদ আলী, মো. গাফফারসহ মোট ৫৩ জনকে বিবাদী করে ২০২৪ সালে বগুড়ার আদালতে ৩৯০/২০২৪ (অন্য) ও ৪০৫/২০২৪ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়।
এ ছাড়া জমি দখলের চেষ্টা ঠেকাতে ২০২৪ সালে বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭৪০ পি/২০২৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ওই মামলায় প্রতিপক্ষরা সংশ্লিষ্ট জমিতে আর যাবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে অব্যাহতি নেন।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, গত ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মো. ওয়াজেদ আলী, মো. গাফফার, মো. আরিফ হোসেন, মো. আকতার মিয়া, মো. দেল মাহমুদ, মো. নুর আলম ও কবির উদ্দিনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক হালচাষ শুরু করেন।
সংঘাত ও হামলার আশঙ্কায় তাঁরা বাধা দেননি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। পরদিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিপক্ষকে জমিতে না যাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করে বলে তাঁর দাবি। তবে ২৭ অক্টোবর সকালে পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষরা আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেজাউল করিমের ভাষ্য, পরে পুলিশের কাছে পুনরায় প্রতিকার চাইলেও তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরামুল হোসাইন বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে বা কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।