রাজারহাটে সচেতনতামূলক সভায় বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবন্ধে ইউএনও’র জোরালো আহ্বান

sohan
Senior Reposrter
প্রকাশ: ১১ আগস্ট, ২০২৬ - ১১:১৮
• পঠিত: 6 বার

‘বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও যৌতুক নিরোধে’ সচেতনতামূলক এক সভা গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, রাজারহাট, কুড়িগ্রামের আয়োজনে এ সভায় সমাজের নানা স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি; এটি মেয়েদের শৈশব কেড়ে নেয়, তাদের স্বপ্নকে পদদলিত করে। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতেই হবে। যৌতুকের নামে নারীরা যেন আর নির্যাতনের শিকার না হন, সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রানী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একাডেমিক সুপারভাইজার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও রাজারহাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান লিটন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও ইউপি সদস্যবৃন্দ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীজনেরা সভায় অংশ নেন।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রানী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শুধু প্রশাসনের পক্ষে এই সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদেরও সচেতন হতে হবে। কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
সাংবাদিক মোঃ আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি নিয়মিত এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করি, তবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। যৌতুকপ্রথা বন্ধ করতে হলে প্রথমে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।’
সভায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং নারী নির্যাতন ও যৌতুক নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, সামাজিক এই ব্যাধি নির্মূলে এ ধরনের সচেতনতামূলক সভা অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

