পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মো. আব্দুল মজিদকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এবং নিয়োগের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক স্পিকারের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সংসদীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, ঘাস কাটার টেন্ডার, কার্পেট চুরিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই ও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
পঞ্চগড়বাসীর একটি অংশের প্রশ্ন, গত ১৭ বছরে জেলার সাধারণ মানুষের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁকে তেমন সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। একইভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকার বিষয়েও দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ড সামনে আসেনি বলে তাঁরা মনে করেন।
এরই মধ্যে সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসকের মৃত্যুর মাত্র সাত দিন পর মো. আব্দুল মজিদকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নিয়োগের সময়কাল ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোন প্রক্রিয়ায় তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। তাই এর প্রশাসক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
পঞ্চগড়বাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।