
বগুড়া
প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - ১০:২২
• পঠিত: ৪ বার

বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (ফল ব্যবসায়ী)। এ ঘটনায় তার বন্ধু নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত মো. স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের দাবি, ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাজিম ও স্বপন। হত্যার আগে ওয়াহেদকে অচেতন করার উপায় জানতে নাজিম অনলাইনে চেতনানাশক ওষুধের নাম খোঁজেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ওয়াহেদের ভাই সোহেল হোসেন বগুড়া সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তখন মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন।
নিহত ওয়াহেদ বগুড়া শহরের সুত্রাপুর এলাকায় তার বাবার সঙ্গে স্টেশন সড়কে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। নাজিম ও স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। তাদের সঙ্গে ওয়াহেদের বন্ধুত্ব ছিল।
এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে ওই বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা স্বপনকে এবং এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। পরে ওই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাজিম নিজের মোবাইল ফোনে অনলাইনে অচেতন করার ওষুধের নাম খোঁজেন।
পরে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয় বলে পুলিশের দাবি। কিছুক্ষণ পর ওয়াহেদ মারা গেলে রাতে তার মরদেহ বস্তায় ভরে কাছের একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন নাজিম ও স্বপন চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, নাজিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপর অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, নাজিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার আগে অনলাইনে অচেতন করার ওষুধের নাম খোঁজার কথা জানিয়েছেন। হত্যায় ব্যবহৃত দ্রব্য, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং স্বপনের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।
