নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দেয়ালের অংশ ধসে পড়া, মেঝে দেবে যাওয়া ও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাঠে বসে ক্লাস করছে। অন্য একটি শ্রেণির পাঠদান চলছিল বিদ্যালয়ের বারান্দায়। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখা যায়, কক্ষটির পেছনের দেয়ালের একটি অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। মেঝের কিছু অংশও দেবে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় বড় ফাটল রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পুকুর থাকায় ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিমু কবিরাজ জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। এ কারণে শিক্ষকরা তাদের মাঠে পাঠদান করাচ্ছেন। তবে বৃষ্টি হলে মাঠে ক্লাস করা সম্ভব হয় না।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা জানায়, প্রায় এক মাস ধরে তাদের বাইরে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে প্রায়ই পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানায় সে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ রানা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো সরকারি ভবন বরাদ্দ হয়নি। শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি কক্ষ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষের দেয়ালের অংশ ধসে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে তাদের বাইরে পাঠদান করানো হচ্ছে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরাও। তাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হোক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের চাহিদা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মাঠে ক্লাস করায় শ্রেণিকক্ষ সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিদ্যালয়ের সমস্যাটি তাঁর নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার অথবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।