বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মন্ডবে মন্ডবে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দুর্গাপূজার তিনসাপ্তাহ বাকি থাকলেও পাল বাড়ি ও মন্ডপ গুলোতে তড়িঘড়ি করে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দিন-রাত সমানতালে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার দক্ষিণ মেন্দা শ্রী শ্রী কালী-দুর্গামন্দির আটচালায় মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়,খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগরেরা। কেউ তৈরি করছেন প্রতিমার কাঠামো, কেউ মাটি দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবদেবীর অবয়ব। কাঠামোর কাজ শেষে এখন চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। কোথাও কোথাও প্রতিমা শুকানোর পর রং-তুলির কাজও শুরু হয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের নারী ও শিশুরাও প্রতিমা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবী দুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতিবছর অসুরের বিনাশ করতে মা দেবী দুর্গা এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়।সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার ও গ্লানি দূর করার জন্যই এই দুর্গাপূজার আয়োজন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ কুমার গুণ জানান,চলতি বছরে ভাঙ্গুড়া পৌরসভাসহ ৬টি ইউপিতে মোট ২১টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে বরণ করতে বাড়িঘর সাজাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ উৎসব, কেনাকাটা ও পূজার প্রস্তুতি।
২০২৬ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজার মহালয়া ১০ অক্টোবর, মহাপঞ্চমী ১৬ অক্টোবর, মহাষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমী ১৮ অক্টোবর, মহাষ্টমী ১৯ অক্টোবর, মহানবমী ২০ অক্টোবর ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসার্জন। এদিন শঙ্খনাদ, উলুধ্বনি, ঢাকঢোলের বাদ্য আর অশ্রুভেজা ভক্তির আবহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী সংগীত কুমার বলেন, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভাঙ্গুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।