আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে শিশুদের সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট। পাশাপাশি নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক শিশু।
এতে ২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র রোগীর চাপ। ৪৫ শয্যার ওয়ার্ডটিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ভর্তি ছিল ২৩৫ শিশু। ফলে একটি শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু ওয়ার্ডে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০৫ শিশু। অনুমোদিত ৪৫টি শয্যার বিপরীতে রোগী রয়েছে ২৩৫ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
বুধবার সকালে শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জায়গার সংকটে একটি শয্যায় পাশাপাশি দুই থেকে তিন শিশুকে রাখা হয়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভিড়ে ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে গাদাগাদি পরিস্থিতি। এতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এক শিশু।
শিশুটির স্বজনেরা জানান, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয় সব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজনেরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রাতে ২২০ থেকে ২৩০ জন শিশুর সেবায় মাত্র দুইজন নার্স দায়িত্ব পালন করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এতসংখ্যক শিশুর সেবা দিতে দ্রুত জনবল বাড়ানোর দাবি জানান রোগীর স্বজনেরা।
তবে শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স তাজনেহার বেগম বলেন, অমিকন, ওমিপ্রাজল, ডেক্সামেথাসন, মেরোপেনেম ও সেফট্রিয়াক্সনসহ প্রয়োজনীয় অধিকাংশ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হাসপাতালে মজুত রয়েছে।
অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সাজ্জাদ হায়দার শাহিন।
তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী থাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে হামের মতো অতি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের অতিরিক্ত ঘেমে ঠান্ডা যাতে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ এবং এরপর সুষম গৃহজাত খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো ও ধুলাবালু থেকে দূরে রাখা জরুরি।
শিশু খেতে না পারলে, বারবার বমি করলে, খিঁচুনি হলে বা অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়লে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
হাসপাতালে রোগীর চাপ দিন দিন বাড়লেও সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত শিশু ওয়ার্ডের শয্যা ও জনবল বাড়ানো না হলে সামনে শীত বাড়ার সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।