রোগীর চাপ বাড়লেও জনবল সংকটে হিমশিম খাচ্ছে ২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালের ২৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৭১ জন। ফলে ৮২টি পদই শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মরতদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের ৮৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৪২টি পদই শূন্য। নার্স ও সংশ্লিষ্ট পদে ১০১ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯১ জন। তৃতীয় শ্রেণির ৪০টি পদের মধ্যে ২০টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৭ জন।
বিশেষ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই জনবল সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪৫টি অনুমোদিত শয্যার বিপরীতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ভর্তি ছিল ২৩৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০৫ শিশু।
অতিরিক্ত রোগীর চাপে শিশু ওয়ার্ডে একটি শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জায়গা না পেয়ে অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতেও রাখতে হচ্ছে।
এর ফলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
রোগীর স্বজনেরা জানান, রাতে শত শত শিশুর সেবায় অল্পসংখ্যক নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে একজন নার্সকে একসঙ্গে অনেক রোগীর দেখভাল করতে হচ্ছে। দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান বলেন, অনুমোদিত পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত ডিউটি পালন করে পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে সামনে শীত বাড়লে শিশু রোগীর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। তাই রোগীর অনুপাতে শয্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত বাড়ানো জরুরি।