
বগুড়া
প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ - ১৮:৪১
• পঠিত: ২ বার

বগুড়ায় বিদ্যালয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা মো. বিপুল মিয়া। ছেলেকে খুঁজে পেলে শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত দুষ্টুমি করায় ওই শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছিলেন শিক্ষক আবু রায়হান। একই সঙ্গে তার অভিভাবককে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে বলেছিলেন তিনি। এর জের ধরে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। গাছের ডালের আঘাতে শিক্ষকের থুতনি কেটে যায়। সেখানে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া তার ঘাড়েও গুরুতর জখম হয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বহিষ্কার করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা মো. বিপুল মিয়া পেশায় ট্রাকচালক। তিনি জানান, কষ্ট করে উপার্জন করে সংসার চালান এবং ছেলেকে মানুষ করার চেষ্টা করছেন। তিনি কখনো ছেলেকে ‘তুই’ বলেও সম্বোধন করেন না। তারপরও তার ছেলে এমন ঘটনা ঘটাবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
বিপুল মিয়া বলেন, ঘটনার দিন মাগরিবের সময় দোকান থেকে টাকা নিয়ে তার ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলেকে খুঁজে পেলে শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানোর ইচ্ছা রয়েছে তার।
এদিকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় তারা শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ২০০৬ সাল থেকে তারা এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। এ প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এ ঘটনা তাদের দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সন্তানদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনে মুবিনা নীলা বলেন, তারা শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। প্রতিষ্ঠানের ২০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি। সামান্য বিষয়ে সতর্ক করায় একজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের ওপর আঘাত মানে পুরো শিক্ষকসমাজের ওপর আঘাত।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও আচরণের বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
