
ধুনট বগুড়া
প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - ১৩:১৩
• পঠিত: ১১ বার

বগুড়ার ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ সময় টিনের তৈরি একটি মসজিদে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—রামনগর গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), সোহরাব আলীর ছেলে নুর আলম (৩০), মহির উদ্দিনের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৪), মেছের আলীর ছেলে ডাবলু হোসেন (৪০), আছের আলীর ছেলে রেজাউল প্রামাণিক (৪২), আফছার আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম (৫৫), উজ্জল মিয়ার স্ত্রী সুমি খাতুন (৩০) ও মোরগ আলী প্রামাণিকের স্ত্রী গোলছারা বেগম (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়রা মিলে টিনের তৈরি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে যাতায়াতের সুবিধার জন্য মসজিদটি ক্রয় করা নির্ধারিত জায়গায় না করে সেখান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মসজিদের নির্ধারিত জায়গা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তারা দুই পক্ষের হয়ে যান।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে অপর পক্ষ মসজিদের নির্ধারিত জায়গায় নতুন একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটিতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের মাইক, ফ্যানসহ বিভিন্ন সামগ্রীও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোহরাব আলী অভিযোগ করে বলেন, ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
তবে অপর পক্ষের আবুল কালাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে তিনি মসজিদে প্রবেশ করলে তাকে আটক করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
