একসাথে, আরও শক্তিশালী—জলাতঙ্ক মুক্ত বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কুড়িগ্রামে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে একটি র্যালি শহরের সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপনকুমার বিশ্বাস। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে এতে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন (Anti-Rabies Vaccine) মজুত রয়েছে। প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলেন, কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ালে কিংবা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থান দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রচুর প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ক্ষতস্থানে তেল, হলুদ, মরিচ বা কোনো ধরনের ক্ষতিকর ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। এরপর দেরি না করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মতো যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য গৃহপালিত কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সভা থেকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সম্মিলিত সচেতনতা ও যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই জলাতঙ্কমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।