শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাটি, খড় ও রং-তুলির কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপগুলোর ব্যস্ততা। কোথাও চলছে মণ্ডপ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ, কোথাও চলছে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। এর পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কারিগররাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।
কারিগররা জানান, অধিকাংশ প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমার চোখ, মুখসহ বিভিন্ন অঙ্গ ফুটিয়ে তোলার কাজ শুরু হবে। এরপর পোশাক ও অলংকার দিয়ে প্রতিমা সাজিয়ে মণ্ডপে স্থাপন করা হবে। একেকটি কারিগরের দল একাধিক প্রতিমা তৈরির কাজ নেওয়ায় বর্তমানে তাদের কাজের চাপও বেড়েছে।
শিবগঞ্জের সাদুল্যাপুর গ্রামের প্রতিমা কারিগর বিপুল চন্দ্র সরকার বলেন, বংশপরম্পরায় তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। এ বছর তিনি ছয়টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন। প্রতিটি প্রতিমা তৈরি করতে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।
প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নেন তিনি।
আরেক কারিগর হিরেন চন্দ্র অধিকারী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন। জীবনের বেশির ভাগ সময়ই এ পেশার সঙ্গে কেটে গেছে। এ বছর তিনি সাতটি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩৮টি এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কাজও শেষ হবে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও রাখা হবে।