বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, নষ্ট ডিম ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ বিএসটিআই লাইসেন্সের লোগো ব্যবহার এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার অপরাধে ‘মুসলিম বেকারী’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়া।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বগুড়া সদর উপজেলার খান্দার রোড এলাকায় অবস্থিত ‘মুসলিম বেকারী’তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাটিতে রেখে পাউরুটি তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যপণ্য তৈরিতে ভাঙা ও নষ্ট ডিম ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের পণ্যে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না করেই বিস্কুট ও কেক বাজারজাত করা হচ্ছিল। বেকারির খাদ্যকর্মীরাও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছেন না বলে অভিযানে প্রতীয়মান হয়।
এসব অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ দোষ স্বীকার করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ‘মুসলিম বেকারী’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে বেকারিতে থাকা ভাঙা ও নষ্ট ডিমগুলো জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে বেকারির সার্বিক পরিবেশের মান উন্নয়ন করে এর প্রমাণক জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয়ে দাখিলের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন র্যাব-১২ ও জেলা পুলিশের চৌকস সদস্যরা।