বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা মধ্যপাড়ায় অবস্থিত ‘শহিদ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’তে যৌথ অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়া, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়া এবং এসআরবি-১২, বগুড়ার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে কারখানাটিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চানাচুর সংরক্ষণ, নোংরা পরিবেশে এবং পায়ে মাড়িয়ে ময়দার ডো তৈরি, পোড়া তেলে চানাচুর ভাজা এবং ময়লা মেঝেতে ফেলে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুরে মসলা মেশানোর বিষয়টি পাওয়া যায়। এছাড়া রান্নাঘরে তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের অস্তিত্ব এবং নন-ফুড গ্রেড রং ব্যবহার করে চানাচুর তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। খাদ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করতেও দেখা যায়নি।
এসব অনিয়ম ও অপরাধের দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ও ৪৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানে আনুমানিক ৮০ কেজি পায়ে মাড়িয়ে তৈরি ময়দার ডো, ৭০ কেজি চামড়ায় ব্যবহৃত লবণ এবং ৮০ কেজি ব্যবহার অনুপযোগী পোড়া তেল বিধি মোতাবেক জব্দ ও ধ্বংস করা হয়।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেলের নেতৃত্বে এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদি হাসানের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নমুনা সংগ্রহ সহকারী মো. মামুনুর রশিদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন এসআরবি-১২, বগুড়া এবং জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক-কর্মচারীদের সরকারি সব আইন ও বিধিবিধান মেনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।