হোম/সংবাদ

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিটাব’—সাবেক যুবদল নেতা

নর্থ এক্সপ্রেস

নর্থ এক্সপ্রেস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ - ২০:৯

• পঠিত: 29 বার

শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত



শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করারও অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন, জাগো নিউজ ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন লিখিত নোটিশ ছাড়াই শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয়। এর প্রতিবাদে রোববার প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এর জেরে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রতিবাদে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে বিধান মজুমদার অনিকে কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে সংবাদ সংগ্রহের সময় জাহিদ হাসান রনি ও বরকত উল্লাহর ওপরও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে জাহিদ হাসান রনির মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

হামলার শিকার বিধান মজুমদার অনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে আসতে সক্ষম হন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি অভিযোগ করেন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লাসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁর পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়।

এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আরিফ মোল্লা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘ও সাংবাদিক, ওকে ধর’ বলে নির্দেশ দেন। এরপর কয়েকজন তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। হামলার সময় তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বরকত উল্লাহ আরও বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

এ ঘটনায় শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে উত্তেজিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই লিস্টে আছে, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে যাবে। তুমি নিজেও তৈরি থাকো ইনশাআল্লাহ... তোমরা লেখবা আর আমরা তো তোমাদের পিটাবো।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান বলেন, একজন ব্যক্তিকে কয়েকজনকে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখেছেন। তিনি জানতেন না ওই ব্যক্তি সাংবাদিক। এর বেশি তিনি বলতে পারবেন না বলে জানান।

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি এভাবে করা উচিত নয়। তবে ওই সমাবেশে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।